দুই অধ্যাপিকার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া নিউজ ২৪, উলুবেড়িয়া- সোমবার রাতে ১৬নং জাতিয় সড়কে কুলগাছিয়া উড়ালপুলের উপর চারচাকা গাড়ির সঙ্গে ট্রেলারের সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপিকা নন্দিনী ঘোষ ( ৩৬) এবং এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপিকা মিসা রায়ের (৩৩)। দুর্ঘটনায় তাদের গাড়ির চালক বিশ্বজিৎ দাসের (৩১) ও মৃত্যু হয়েছিল।বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে গাড়িটি ছিল নন্দিনী ঘোষের। সেই গাড়িতে চেপেই আসছিলেন মিসা রায়। নন্দিনী আগে ট্রেনে চেপে যাতায়াত করতেন। করোনা কালের পর তিনি গাড়ি কেনেন। তাতেই যাতায়াত করেন। আর যাতায়াতের পথে অন্যান্য সহকর্মীদের কয়েকজনকে গাড়িতে একসঙ্গে নিয়ে যান। সাধারণভাবে মিসা তার গাড়িতে যেতেন না। তিনি যাতায়াত করতেন ট্রেনেই।

নন্দিনীর বাবা সুদীপ ঘোষ জানান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরোনোর পর গাড়িতে উঠে বিকাল ৫ঃ০৪ মিনিট নাগাদ নন্দিনী তার মাকে মেসেজ করে জানিয়েছিলেন যে তারা বেরিয়ে পড়েছে। কিন্তু সাড়ে আটটা বেজে যাওয়ার পর না আসছে দেখে মেয়েকে ফোন করছিলাম। কিন্তু ফোনে পাচ্ছিলাম না। পরে যোগাযোগ করি লালবাজারের এক পরিচিত অফিসারের সঙ্গে। পরে উলুবেড়িয়া থানা থেকে আমাকে নন্দিনীর দুর্ঘটনার কথা জানায়। এরপর আমরা উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগাযোগ করে নন্দিনীর মৃত্যুর খবর জানতে পারি। অন্যদিকে মিসা রায় ও বাড়ি না ফেরায় পরিবারও উৎকণ্ঠায় ছিলেন। তারা লালবাজারে ১০০ নম্বরে ডায়াল করেন। পরে খড়দহ থানায় যোগাযোগ করেন। অবশেষে রাত পৌনে ২ টো নাগাদ বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় মিশার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

দুই সহকারি অধ্যাপিকার মৃত্যুর খবরে মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরাও চলে এসেছিলেন উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিকেল কলেজে। ও হাসপাতালে। এসেছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অংকের অধ্যাপক দিলীপ মাইতি। এদিন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার বারোটা পর্যন্ত ক্লাস হয়েছে। তারপরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সহকারি অধ্যাপিকা স্মরণে শোক প্রকাশ করা হয়।

